Posts

Showing posts from May, 2026

অঙ্কুরিত দম—

 'অঙ্কুরিত দম'— এ শুভময় হাসির পাদুকা,  ঘোর নিশির অনিশ্চয়তায় ভরা  আজব এক নিঃশ্বাস! রোপিত চারা গাছ অঙ্কুরিত হওয়ার আশায়,  প্রেম আগ্নির প্রতীক্ষায় । যবে রচিবে কূল, সবই হবে ভুল— ও যে তোমার মোহনায়। পদাকার, কদাকার কিংবা সদাকার—আমি নই ভ্রম, নই হটকারিতার কোনো রূপম। আমি কেবল গজে ওঠার ভরসায়, ছোট্ট এক দম। উঠবো যেদিন ফুলে-ফেঁপে, আটবে যেদিন কোমর বেঁধে, বুঝবে সেদিন—আমি কিসে অঙ্কুরোদগমের ভোর। তুমি-আমি গল্প লিখি, হচ্ছি আমি ছোট, বড়ো হওয়ার যাতায়াত, সবই যেন তুচ্ছ। এখন আমি দিনে দিনে  মাটির সঙ্গেই হচ্ছি নিঃস্ব। তুমি আমার প্রাণের আশা, তুমি যুগল রাশি,  অপরিমেয়র অগোচরে তুমি সন্ধ্যার হাসি। চেয়ে দেখো—প্রথম থেকে আবার শুরু করি, আমি তোমার কচি বালা, অঙ্কুরিত হইনি , যবে তুমি জল দিলে হব তৃপ্ত-প্রীতি। খোলস সেদিন যাবে খসে, শিকড় হবে স্থির, নীল দিগন্তে একদিন হবো ভবযাত্রার পথিক। আমি তোমার দিন-রজনী, তুমি আমার সখী, হাসি-কান্নায় ভেসে যাবে হব পাগলবেশী । অঙ্কুরোদগমের আশায় না হয় কাটুক জনম-ক্লেশ, তুমি আমার, আমি তোমার— এটাই -নিঃশেষ ভালোবাসার শেষ।  ✒️Thomas T.G.

পীড়াগ্রস্ত

পীড়াগ্রস্ত – দেখ আমি পীড়াগ্রস্ত আত্মা ওহে কাঙ্গাল কত লইবে ত্রাণ এবার না হয় থাম বাপু, নাহয় সবি যে হবে নিলাম। চাহিয়া দেখো তোমার ভ্রাতৃসনদ করিছে হাসফাস, পাছারিতে তারা হয়েছে আধোপ্রায়। তবে আমি কোন শব্দ নই, আমি এক নিঃশব্দের ভাঙ্গা আলো— যেখানে সন্ধ্যা শুধুই কালো, যেখানে রাতও হাঁটে ধীরে বহতা ছায়া টেনে টেনে। আজ গোধূলি লগ্নের পাখিরাও হারিয়েছে তাদের সাজ, অনুভূতিতে জাগায় কেবলই বিমনোদ্রেকের গান। কিন্তু দূরে কারও বাঁশির সুর হালকা করে ছুঁয়ে যায় মন, যেন ব্যথার ভেতরেও বেঁচে আছে কোনো স্মৃতি-উন্মাদনা। আজ আমি পীড়াগ্রস্ত, কোন আত্মায় লেখা, কোন মোনাজাতের পাঠ; যা কেবল বাতাসই বোঝে আর কাতরায়। আমি হারাই, আবার ফিরে আসি নিজের ভাঙ্গা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না করি। হঠাৎ দেখি—দরজার পাশে সূর্যের ক্ষীণ স্পর্শ পড়ে আছে চুপিসারে, ডেকে যায় আমার হারানো সত্তাকে। আর বুঝি— আমি পীড়াগ্রস্ত, আর এ আমার মনন ব্যাথা! ✒️Thomas T.G.

মত্ত পাপী—

মত্ত পাপী— আস্বাদনের তোমায় চিনি না হয় আজি হবে দেরি; মননে গড়া এ শৈলগির, ভাঙিবে আজ নয়ন হেরি তুমি সুধা কর পান হবে না হয় সবই দান। আমি তোমার চক্ষু হেরি চরণ তোমার শত চুমি। তুমি যে দাও সুধা বাণী আমি তারই অনুগামী। তুমি আমার সাধন ভজন না হয় হলাম নগ্ন সাধক আমি যারে খুঁজে মরি সেই তুমি ডাক যানি। না শুনে আমি কেমনে থাকি? ভগ্ন আমি পাপেতে ডুবি তবু সব ত্যাগিতে রাজি, তোমার তরে সবই বাজি তুমি যদি হও মোর একান্ত পথস্বামী! পাঁজরবদ্ধ মৃত আমি তুমি শুধু আমার—একমাত্র তুমি, পথ দিশারী। তবু যে রয় কালি, আমি যে অন্ধ বেশি মত্ত পাপী!   ✒️Thomas T.G.

রিক্ত বেদনা —

  রিক্ত বেদনা — বেদনার প্রকাশ কি ঘটে শুধুই তোমার মোহে নাকি মোর এ শূন্য প্রাণে? আজ আমি তোমার সমিপে, উজাড় করে দিতে চাই মনের সব হিসেব। তবে একটা কথা আছে— কেউ মোরে রাখে না ধরে যদি না তুমি সাড়া দিলে। লুকিয়ে আছি আধোপথে; কেউ না আসে আলো হয়ে।  যখন খোঁজো কারণ শেষে ছায়া বলে করুন হেসে— আমি তোমারে সঙ্গ দিশে, হঠকারিতা যে শুধুই মিছে। এখানেও একটা কথা আছে, জগত আমায় ভালোবাসে, আমি যে আজ শত সাজে ধরেছি শত বেশ। তবে তিনি শুধুই খোঁজেন ভগ্ন, রিক্ত আমার অন্তরদেশ। জগৎ আমায় নতুন শেখায়, সোনালী রোদের ঢেউয়েও গলে যায় আমার স্থবির কাতরতা, রক্তের ক্লেদে। এই দুনিয়া মানায় কেবল ভাবনামগ্ন বেশে, এ দুনিয়া মানায় কেবল পূর্ণিমার চাঁদেও লুকানো নষ্ট ক্ষেতে। জীবন-জোয়াল বড় ভারী, মৃত গল্পের ভেতর যেন এক অদ্ভুত অমৃতের রঙ্গরাশ। শুভ্র পোশাক পরিহিত ক্লান্ত প্রাসাদসিন্ধু, অমেয় পথের যাত্রায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছি— আমি রিক্ত বন্ধু।

জীবনটা—একটি অনন্ত প্রশ্নের গল্প

 ' জীবনটা—একটি অনন্ত প্রশ্নের গল্প'- আচ্ছা, জীবনটা আসলে কী? এই প্রশ্নটা যত সহজ শোনায়, ততটাই গভীর। আমরা প্রতিদিন বাঁচি, চলি, কথা বলি—তবুও হঠাৎ একদিন মনে হয়, “আমি আসলে কীসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি?” তখনই এই প্রশ্নটা আমাদের ভেতরে জেগে ওঠে। জীবনটা কি তালপাতার চড়কি—যে মৃদু হাওয়ায় আমি নেচে উঠি, আর দমকা হাওয়ায় দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ি? মাঝে মাঝে সত্যিই তো এমন লাগে। একটু ভালো কথা, একটু প্রশংসা—আমরা খুশিতে ভেসে যাই। আবার সামান্য কষ্ট, সামান্য অপমান—আমরা ভেঙে যাই। যদি জীবনটা শুধু চড়কির মতো হতো, তাহলে আমাদের কোনো ভিত থাকত না, কোনো স্থিরতা থাকত না। আমরা শুধু পরিস্থিতির খেলনা হয়ে থাকতাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা জানি—জীবন এতটা দুর্বল নয়। তাহলে কি জীবনটা সাইকেলের চাকায় হাওয়া ভরার মতো? যতই হাওয়া ভরি, একসময় থামতে হয়। কারণ অতিরিক্ত চাপ আর নেওয়া যায় না। একটা সীমা আছে—প্রসারের, শক্তির, সহ্য করার। এটাও সত্যি। আমরা যতই দৌড়াই, যতই অর্জন করি—একটা জায়গায় এসে থামতেই হয়। শরীর বলে “আর পারছি না”, মন বলে “একটু বিশ্রাম চাই।” জীবন যেন আমাদের শেখায়—সবকিছুই সীমার মধ্যে সুন্দর। কিন্তু জীবন শুধু থেমে যাওয়ার গল্প না। জী...

আমি কে? —

  আমি কে?  একটু থেমে নিজেকে নিয়ে নিজের ভেতর একা হয়ে নিজেকেই খুঁজি নীরব সুরে— কে আমি, এই প্রশ্ন ঘুরে ঘুরে। কখনো খুঁজে মেলে আনন্দের আলো, কখনো আবার ব্যথার কালো। অতীত এসে ভাসায় চোখের জলে, তিক্ত স্মৃতি নীরব হয়ে বলে। ভবিষ্যতের দূর অজানা পথে ভাবনা জাগে হৃদয়ের সাথে। ভালো-মন্দের ভার নিজের কাঁধে, চলতে হয় জীবনের সেই সাঁকে। শোনা যায় কথা—ভাবিয়া করিও কাজ, করে ভাবি, তবু হারায় মাঝে মাঝে সাজ। কতবার আর কষ্টে নিজেকে ভাঙা, নিজেরই কাছে নিজের হওয়া ম্লান রাঙা। তবু জানি এক সত্য চিরন্তন, সদাপ্রভু জানেন আমার মন-মনন। তিনি দেখেন শিরা-উপশিরার গান, আমার নীরব ব্যথার অজানা প্রাণ। আমরা তবু মানুষ, সীমিত জ্ঞানী, বোঝার মাঝে রয়ে যায় অজানা বাণী। দুই দিনের এই ক্ষণিক জীবনখানি, আনন্দে ভরে রাখাই তারই মানি। হাসির মাঝে কাটুক দিনের পথ, দুশ্চিন্তা কেন করবে এত যত? কোলাহল হোক, তবু হোক সুবিবেচনা, জীবন মানেই অনুভবের বর্ণনা। শেষে যদি আসে ভারী কোনো ক্লান্তি, চোখের জলে হোক হৃদয়ের শান্তি। কান্নায় ধুয়ে যাক মনের সব বোঝা, নতুন করে বাঁচার থাকুকই ভরসা।    ✒️Thomas.T.G.

অন্তঃস্বর—

অন্তঃস্বর অপরিমেয় কেন করো ক্রন্দন? অবচেতন মন, কেন হও এত মত্ত? কেন এত প্রশ্ন, এত অগণিত সংশয়? এ যেন কাদা-মাটির মণ্ড— ছুঁলেই ভেঙে হবে খণ্ড খণ্ড। এ যেন এক নিরাকার দণ্ড, যার আকৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি,  যে সত্তা এখনো অজ্ঞাত, অদৃশ্য। শোনো, কান পেতে শোনো তার কর্কশ শব্দ— এ তো নয় বাসের ঘর্ষণ, বাজের গর্জন, কিংবা বৃষ্টির স্পর্শে মাটির সুগন্ধে মুখর কোনো লগ্ন। এ ঘোলাটে নয়— এ কেবল স্বচ্ছ জলে নিজেরই প্রতিফলন। আঁকাবুকি কিংবা ডাকাডাকি— সবই নিছক, শুধুই ক্ষণিকের কোলাহল। দোয়াত-কালির কলম লিখছে আজ চিরন্তন সত্য। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সময় যে বড় স্বল্প! ✒️Thomas.T.G