ভাবনাচ্ছটা:ঘরের কোণে বসে.....

 ভাবনাচ্ছটা:ঘরের কোণে বসে.....


বৃষ্টির দিন। তুষার কণার মতো হালকা, কোমল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে — যেন প্রকৃতি আজ কবিতার ছন্দে কথা বলছে। অথচ এই নরম আবহে মানুষের ভেতর একটা অদৃশ্য তাড়া, তাড়াহুড়া। যার যার দরকারে, স্বার্থে, গন্তব্যে ছুটছে সবাই।


আর আমি? আমি একা, ঘরের কোণে বসে আছি। কোনো কাজ নেই — অথচ মনের ভেতর কত কাজ। ভাবছি। আবার, কেবল ভাবছিও না — শুনছি। শুনছি জানালার ফাঁক গলে আসা গান, জনমনের উত্তাপের গজগজ এবং পানি এক পাতা থেকে অন্য পাতায় পড়ার টুপটাপ শব্দ।


জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখি — একঝাঁক পাখি কদম গাছের ডালে বসে আছে। তাদের ডানা ভেজা, কিন্তু চোখে ক্লান্তি নেই। ওরা ব্যস্ত, কারণ ওদেরও তো ঘর বানাতে হয়। কদমের ডাল আর ঘাসের টুকরো দিয়ে ওরা জোগাড় করছে নতুন এক বাসার স্বপ্ন। কেউ একা নয়। একটা গাছের চারপাশে চারটা বাসা, সঙ্গে একটা ছোট্ট চলমান বাসা — কপোত-কপোতির উড়ে চলা সংসার। কী আশ্চর্য! ওরাও তো আমাদের মতো, এমনকি অনেক বেশি গোছানো, যত্নবান।


আমার মনে হলো, আমি কি তবে অপকর্মী পাখি?

পাখিরাও যখন দায়িত্ব বোঝে, তখন আমি কেন কেবল নিজের সুখেই আটকে থাকি?

জীবন তো সবার। শুধু নিজের আনন্দে বাঁচলে কি জীবন হয়?


হঠাৎ পাখির চোখে চোখ পড়ে গেল। যেন সে বলল, “আমি ব্যস্ত, কিন্তু তা নিয়েই তৃপ্ত। কর্ম আছে, ধর্ম আছে। পঞ্চভূতের সাথে মিশে আছি। আর তুমি? তুমি তো নিজেরে নিয়েই শেষ — অন্যের জন্য কিছু করতে চাও, কিন্তু দিতে জানো না।”


আমার গলায় কিছু আটকে গেল।

আসলে আমি সত্যিই কি কিছু দিচ্ছি?

কেবল নিজের আনন্দ খুঁজি, নিজের খেয়াল রাখি, নিজের মত করে চলি — এটুকুই কি যথেষ্ট?


এইসব ভাবনার মধ্যেই কখন যে বৃষ্টি থেমে গেছে, টের পাইনি। কেবল বাতাস বইছে হালকা হাওয়া হয়ে। তখন দেখি, একটা কপোতা তার ঠোঁটে কচি ঘাস নিয়ে উড়ে চলেছে — দূরের দিকে, নতুন এক দিগন্তের সভার দিকে।


আমি তাকিয়ে থাকি। জানি না সে কোথায় যাচ্ছে।

তবে এটুকু বুঝি — সে ফিরবে, সে গড়বে।

আর আমি?

আমি হয়তো আজই শুরু করব একটুখানি বদল। ছোট্ট একটা পাখির মতো।


✒️Thomas T.G.

Comments

Popular posts from this blog

অন্তঃস্বর—

রিক্ত বেদনা —

আমি কে? —